আপনার ফ্যাশন যেটি হওয়া উচিৎ

ফ্যাশন কি?

ফ্যাশন হলো স্থান, সময়, কাল ও পরিবেশভেদে নিজের পছন্দ অনুযায়ী কাপড়, জুতা, মেকআপ, হেয়ারস্টাইল ইত্যাদির মাধ্যমে নিজেকে তুলে ধরা।

ফ্যাশন শুরুর ইতিহাস

আপনার ফ্যাশন যেটি হওয়া উচিৎ

মানুষ কবে থেকে কাপড় পরা শুরু করেছে, তা নিয়ে রয়েছে নানান তথ্য। কারো কারো মতে, মানুষ এক লাখ ২০ হাজার বছর আগে কাপড় পরা শুরু করেছে। অর্থাৎ মানুষ যেদিন থেকে কাপড় পরা শুরু করেছে, সেদিন থেকেই ফ্যাশনের উৎপত্তি হয়েছে।

যেভাবে তৈরি হয় নতুন নতুন ফ্যাশন

বিশ্বের বড় বড় ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলো একেকসময় একেক ফ্যাশন মানুষের সামনে নিয়ে আসে। অধিকাংশ মানুষ তাতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কোনো একটা ফ্যাশন খুব চলে। এরপর চলে আসে ভিন্ন ফ্যাশন। ফ্যাশনে ভিন্নতা আনা ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোর মার্কেটিং স্ট্রাটেজি। নিজেদের ব্যবসা ধরে রাখার জন্যই একেক সময় একেক ফ্যাশন উদ্ভাবন করে থাকে। চোখ ধাঁধাঁনো বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষকে নতুন ফ্যাশনে অভ্যস্ত হতে কৌশলে বাধ্যও করে।

হারিয়ে যাওয়া বিশ্বখ্যাত পাঁচটি ফ্যাশন ব্র্যান্ড

.     কিনি জুতা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ১৮৯৪ সালে কিনি জুতার নাম সবার মুখে মুখে ছিলো। জুতা ক্রয় গেলেই অধিকাংশ মানুষ কিনি জুতা ক্রয় করতো। এ ছাড়াও পোশাক ক্রয় করতে গেলে কিনি ব্র্যান্ডের পোশাক খুঁজতো যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ-তরুণীরা। 

১৮৯৪ সালে জর্জ রোমান্টো কিনি নিউইয়র্কের ওয়েভারলিতে জুতার ব্যবসা শুরু করেন। ব্যবসার নাম দেন কিনি। ব্যবসা ভালো চলতে থাকে। একপর্যায়ে কিনি ব্র্যান্ড হয়ে ওঠে। ১৯৫৬ সালে ব্রাউন শু কোম্পানি কিনি ব্রান্ড ক্রয় করে নেয়। এরপর ১৯৬৩ সালে এটি ক্রয় করে এফডব্লিউ উলওয়ার্থ (ভেনেটর গ্রুপ)। তারা ব্যবসার পরিধি বাড়াতে থাকে। জুতার পাশাপাশি তৈরি কাপড়ও নিয়ে আসে বাজারে। পুরো যুক্তরাষ্ট্রে ৪৬৭ আউটলেট ছিলো কিনি ব্র্যান্ডের। পরবর্তীতে তাদের ব্যবসায় ধ্বস নামে। তাদের নতুন নতুন ফ্যাশনগুলো মানুষকে খুব আকৃষ্ট করতে পারেনি। ১৯৯৮সালে ভেনেটর তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়।

.     হেনরি বেন্ডেল

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরে নারীদের বিভিন্ন প্রোডাক্টের মাধ্যমে ব্যবসা শুরু করেছিলো হেনরি বেন্ডেল। ১২৩ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে ছিলো তাদের রাজত্ব। কিছু ক্রয় করার প্রয়োজন হলেই নারীরা চলে যেতেন হেনরি বেন্ডেল-এ। ১৯৮৫ সালে এল ব্র্যান্ড এ ফ্যাশন ব্র্যান্ড অধিগ্রহণ করে নেয়। ধীরে ধীরে ব্যবসায় মন্দা চলে আসে। সর্বশেষ ২০১৯ সালে ঘোষণা দিয়েই বন্ধ হয়ে যায় হেনরি বেন্ডেল।

.    জ্যাক ফাথ

দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর ফেথ ফ্যাশনকে অন্যতম সেরা ফ্যাশন মনে করা হত। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর ফ্যাশন সচেতন করে তুলতে ফেথ ফ্যাশনের ভূমিকা অন্যতম। তখন ঘড়ি আকৃতির পোশাক নারীদের কাছে অনেক জনপ্রিয় ছিলো। নারীরা হাঁটুর নিচে স্টাইল করে জামা পরতো। এসব ফ্যাশন ছিলো ফেথের অবদান।

ফেথের প্রতিষ্ঠাতা ১৯৫৪ সালে লিকুমিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর ফেথ ফ্যাশনের দায়িত্ব নেন তার স্ত্রী জেনেভিভ ফেথ। তিনি ফেথ ফ্যাশন বন্ধ করে দেন। কেবল পারফিউমের ব্যবসা চালু রাখেন। ৩৮ বছর সংগ্রাম করে ব্যবসা ধরে রাখেন। একপর্যায়ে কুলাতে না পেরে ১৯৯২ সালে ব্যবসা গুটিয়ে নেন।

.     ক্লেয়ার ম্যাককার্ডেল

১৯৪২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নারীরা পোশাক ক্রয় করার প্রয়োজন হলেই, চলে যেতেন ম্যাককার্ডেলে। ম্যাককার্ডেলের পোশাক ছিলো খুবই আরামদায়ক। দেখতেও সুন্দর। নারীদের পোশাকে থাকতো পকেট এবং পেছনে বেল্ট। ফলে একজন নারী ম্যাককার্ডেলের পোশাক পরে আরামে চলাফেরা করতে পারতেন।

ম্যাককার্ডেল পুরুষদের জন্য স্যুট এবং নানান পোশাকও তৈরি করতো। পুরুষরাও স্টাইলিশ ও আরামদায়ক পোশাক ক্রয় করার জন্য ম্যাককার্ডেলে যেতেন। ধূসর রংয়ের যে স্যুট আমরা ব্যবহার করে থাকি; তা ম্যাককার্ডেল ১৯৫০ সালে প্রথম তৈরি করে। বর্তমানে তাদের তৈরি করা প্রথম ধূসর রংয়ের স্যুট স্মিথসোনিয়ানের ন্যাশনাল মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে।

১৯৫৪ সালে ম্যাককার্ডেল ক্যান্সারে মারা যান। তার পরিবার ম্যাককার্ডেলের ব্যবসা এগিয়ে নিতে অনীহা প্রকাশ করে এবং ব্যবসা বন্ধ করে দেয়।

.     থিয়া পোর্টার

৬০-৭০ দশকে লন্ডনে থিয়া পোর্টার ছিলো অন্যতম ব্র্যান্ড। যারা কোনো শপ ছাড়াই লন্ডনে নিজেদের ব্যবসা পরিচালনা করছিলো। তাদের ব্যবসা লন্ডন ছাড়িয়ে নিউইয়র্ক ও প্যারিসেও বিস্তার লাভ করেছিলো। বিশ্বের অনেক নামীদামী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তাদের থেকে পাইকারি কাপড় ক্রয় করতো।

থিয়া পোর্টার প্রথম কাফতান তৈরি করে। সে সময় এলিজাবেথ টেলর এবং ফায়ে ডুনাওয়ের মতো ব্যক্তিত্বরা পোর্টারের পোশাক পরতো।

পোর্টার পুরুষদের জন্যও নানান স্টাইলের পোশাক ও জ্যাকেট তৈরি করতো-জিপসি’ বা আগাবানি শার্টড্রেস ছিলো সে সময়ের সবচেয়ে পছন্দনীয় পোশাক। এত নাম খ্যাতি হওয়ার পরেও বেশিদিন ব্যবসা করতে পারেনি থিয়া পোর্টার। ৯০ এর দশকে ব্যবসা গুটিয়ে নেয় তারা। অবশ্য পোর্টার ব্যবসা গুটিয়ে নিলেও তাদের ফ্যাশনগুলো আজও মনে লালন করেন যুক্তরাজ্যের মানুষ।       

বিশ্ব সেরা ১০টি ফ্যাশন ব্র্যান্ড

.     লুইস ভিটন

বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ফ্যাশনের নাম লুইন ভিটন। বর্তমানে এর ব্র্যান্ডমূল্য হলো ২৮.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

লুইস ভিটন চামড়ার জুতা, ব্যাগ, তৈরি পোশাক, ঘড়ি, জুয়েলারি ইত্যাদি বিক্রয় করে থাকে। ২০১৭ সালে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের স্বীকৃতিও পেয়েছিলো। তারা কয়েকদিন পরপরই নতুন ডিজাইনের পোশাক বাজারে নিয়ে আসে এবং মানুষকে ভিন্ন ভিন্ন পোশাক পরতে আগ্রহী করে তোলে।

.     গুচ্চি

গুচ্চির ব্র্যান্ডমূল্য হলো ১২.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ১৯২১ সালে গুচ্চিও গুচ্চি এ ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা করেন। সারা বিশ্বে গুচ্চি দামী এবং বিলাসী কাপড়ের জন্য খ্যাত। লাল গালিচা অনুষ্ঠানসহ বিশ্বের বড় বড় অনুষ্ঠানের অতিথিরা গুচ্চির পোশাক পরে থাকেন।

আপনার ফ্যাশন যেটি হওয়া উচিৎ

.    হার্মিস

এ কোম্পানীর ব্র্যান্ডমূল্য ১০.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ১৮৩৭ সালে এ ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৭৬ বছরের পথচলায় বিশ্বের অন্যতম সফল ব্র্যান্ড হলো হার্মিস।

কেলি ব্যাগ ও সিল্ক স্কার্ফের জন্য হার্মিস সারা বিশ্বে পরিচিত। এছাড়াও তারা পুরুষদের বেল্ট এবং নারীদের খেলাধুলার পোশাক ও গ্লাভস তৈরি করে থাকে।

.     প্রাডা

এই কোম্পানীর ব্র্যান্ডমূল্য ৭.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ১৯১৩ সালে ইতালিয়ান চামড়াজাত পণ্য প্রস্তুতকারক মারিও প্রাডা এ ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা করেন। নারীদের কাছে প্রাডা অত্যন্ত জনপ্রিয় ব্র্যান্ড। অবিশ্বাস্য সব স্টাইল ও রংয়ের কাপড় তৈরি করে থাকে প্রাডা। প্রাডার পোশাক পরে নারীরা নিজেদের বিশেষ কিছু ভাবতে থাকেন। প্রাডার পোশাক পরলে যে কোনো নারীর স্মার্টনেস ও সৌন্দর্য বহুগুণে বেড়ে যায়।

আপনার ফ্যাশন যেটি হওয়া উচিৎ

.     চ্যানেল

এই কোম্পানির ব্র্যান্ড ভ্যালু হলো ৬.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।কোকো চ্যানেল এই কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা। নারীদের পোশাকের জন্য এই ব্র্যান্ডটি বিশ্বব্যাপী পরিচিত। ব্র্যান্ডটি চেষ্টা করে এমন পোশাক তৈরি করার জন্য, যা পরে নারীরা গর্ববোধ করতে পারে। এছাড়াও তাদের পোশাক অত্যন্ত আরামদায়ক। এ ব্র্যান্ডটি এমন ছোট কালো পোশাক তৈরি করে, যা নারীরা সবসময় সবখানে পরতে পারে। তবে চ্যানেলের পোশাকগুলো অনেক ব্যয়বহুল।

.    রাল্ফ লরেন

এই কোম্পানির ব্র্যান্ডমূল্য ৬.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

রাল্ফ লরেন বিলাসী পোশাক তৈরি করে থাকে। সাধারণ মানুষদের জন্য এই ব্র্যান্ডের পোশাক ক্রয় করা কঠিন ব্যাপার। বিশ্বের বিখ্যাত সব মানুষ তাদের পোশাক ক্রয় করে এবং পরে। পুরুষদের জন্য সবচেয়ে বিশ্বের সবচেয়ে দামী ও আরামদায়ক পোলো শার্ট তৈরি করে থাকে রাল্ফ লরেন।

আপনার ফ্যাশন যেটি হওয়া উচিৎ

.     বারবেরি

এই কোম্পানির ব্র্যান্ডমূল্য হলো ৫.৮৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। 

বারবেরি একটি ব্রিটিশ কোম্পানি। বারবেরি ব্র্যান্ডের সাথে যারা যুক্ত আছেন, তাদের মধ্যে অড্রে হেপবার্ন বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিদের একজন। নিত্য নতুন কাপড় ও জুতা উদ্ভাবনের জন্য এই কোম্পানি বিশ্বখ্যাত। বারবেরির রয়েছে স্কিনকেয়ার সেন্টার। যেখানে স্কিনের সব রকমের পরিচর্যা করা হয় এবং স্কিনের যে কোনো সমস্যার সমাধান মেলে এখানে।

.    হাউস অফ ভার্সেস

এই কোম্পানির ব্র্যান্ডমূল্য হলো ৫.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

এটি ইতালিয়ান কোম্পানি। ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জিয়ান্নি ভার্সেস এর প্রতিষ্ঠাতা।

ভার্সেস যে ডিজাইন ও প্রিন্টের ককটেল ও গাউন তৈরি করে, তা বিশ্বের অন্য কোনো ব্র্যান্ড শত চেষ্টা করেও তৈরি করতে পারে না।

.     ফেন্ডি

এই কোম্পানির ব্র্যান্ডমূল্য হচ্ছে ৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ১৯২৫ সালে পাওলা ফেন্ডি এ কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন।

বিশ্বমানের হাতব্যাগ ও পোশাক তৈরি করে থাকে ফেন্ডি। বিশ্বের সবচেয়ে জনগ্রিয় হাতব্যাগ ব্যাগুয়েট তাদের তৈরি। ফেন্ডি তাদের পোশাকের স্বকীয়তা যুগের পর যুগ বজায় রেখে চলেছে। এজন্য তাদের কাস্টমার অন্য কোনো ব্র্যান্ডের জিনিস ক্রয় করে না।

১০.   আর্মানি

এ কোম্পানির ব্র্যান্ডমূল্য ৩.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

আর্মানি পোশাকগুলোর সেলাই অত্যন্ত নিখুঁত ও মজবুত হয়। এছাড়াও তাদের পোশাকগুলো অত্যন্ত আকর্ষণীয়। হলিউডের অধিকাংশ তারকারা আর্মানির পোশাক পরে থাকে। কাপড়ের পাশাপাশি আর্মানি পারফিউম, চামড়ার ব্যাগ, জুতা, সানগ্লাস ও মানুষের সৌন্দর্য বর্ধনের সব আইটেম তারা বিক্রয় করে থাকে।

হারিয়ে যাওয়া এবং আধিপত্য বজায় রাখা সব ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোর তালিকায় পশ্চিমাদের একচ্ছত্র আধিপত্য দেখা যায়। অর্থাৎ বিশ্বে ফ্যাশন যা ছিলো এবং যা আছে সবই পশ্চিমারা মানুষের সামনে তুলে ধরছে। যেটা ফ্যাশন না, সেটাকেও ফ্যাশন হিসেবে তুলে ধরছে পশ্চিমারা। পশ্চিমাদের অনুকরণ করেই ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে জন্ম নিয়েছে নানান ফ্যাশন।

ওয়েস্টার্ন ফ্যাশন বাংলাদেশ

বর্তমান যুগের মডার্ন ছেলেমেয়েরা বলে, তারা ওয়েস্টার্ন ফ্যাশন পছন্দ করে। বাস্তবে বাংলাদশের ছেলেমেয়েরা যেসব পোশাক পরে এবং যে স্টাইলে চলে তা শতভাগ ওয়েস্টার্ন নয়।

বর্তমানে বাংলাদশের অনেক নারী ওড়না ছাড়া কামিজ পরে, এটা তো ওয়েস্টার্ন ফ্যাশন নয়। এটা ভারতীয় ফ্যাশন। অনেক নারী হাতা কাটা ব্লাউজ দিয়ে শাড়ি পরেন। এটাও ওয়েস্টার্ন ফ্যাশন নয়। কারণ, ওয়েস্টার্নরা কামিজ বা শাড়ি পরে না। তাদের পোশাকের ধরনই ভিন্ন।

আপনার ফ্যাশন যেটি হওয়া উচিৎ

আরেকটা বিষয় হলো, ঈদের সময় কেনাকাটা করতে গিয়ে অধিকাংশ নারী ভারতীয় ও পাকিস্তানি কাপড় তালাশ করেন। কোনো কাপড় আমাদের দেশীয়, তা বুঝতে পারলে ক্রয় করতে চান না। কসমেটিক্স আইটেমেও ভারতীয় পণ্য চাওয়া হয়। বিবিসি বাংলার ২০১৮ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শপিংমলে গিয়েই মানুষ ভারতীয় কাপড় ও প্রোডাক্ট খুঁজে। ভারতীয় পণ্যে সয়লাব বাংলাদেশের বাজার।

তাই বলা যায়, পশ্চিমা, ভারতীয় ও পাকিস্তানি এই তিন ফ্যাশনের সমন্বয়ে যে ফ্যাশন গড়ে উঠেছে তা অনুকরণ করছে বাংলাদেশর অধিকাংশ মডার্ন মানুষজন।

বাংলাদেশী ফ্যাশন

ফ্যাশনের যদিও নির্দিষ্ট কোনো সংজ্ঞা নেই। সময়ের সাথে ফ্যাশনও পাল্টায়। এরপরেও পূর্বপুরুষরা যা করেছেন তাকে অনুকরণ করাই নিজেদের ফ্যাশন মনে করা হয়। সে হিসেবে বলা যায়, বাংলাদেশের মহিলাদের ফ্যাশন হলো শাড়ি পরা। মেয়েদের ফ্যাশন হলো ওড়নাসহ সেলোয়ার-কামিজ পরা। পুরুষদের ফ্যাশন হলো লুঙ্গি ও পাঞ্জাবি বা পাজামা-পাঞ্জাবি পরা।

পয়লা বৈশাখে কিন্তু নারীরা শাড়ি এবং পুরুষ পাজামা-পাঞ্জাবি পরেন। মানে হলো, বাংলাদেশীরা এখনও শাড়ি ও পাজামা-পাঞ্জাবি নিজের ফ্যাশন মনে করে থাকেন।

হিজাব ফ্যাশন

বর্তমানে বাংলাদেশের অনেক নারীকে দেখা যায় মাথায় হিজাব পরতে। যে স্টাইলে নারীরা হিজাব পরে থাকেন ইসলাম এভাবে হিজাব পরতে বলেনি। ইরান ও তুর্কি সিনেমায় নারীদের এরকম হিজাব পরতে দেখা যায়। মধ্যপ্রাচ্যের মডারেট মুসলিম নারীরাও এভাবে হিজাব পরে থাকেন। অনুমান করা যায়, আমাদের নারীরা ইরান ও তুরস্কের ছবি দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে বা মধ্যপ্রাচ্যের মডারেট মুসলিম নারীদের দেখে হিজাব পরে থাকেন।

ইসলামি ফ্যাশন

হাদীস শরীফে এসেছে, যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাথে সামঞ্জস্য রাখে সে তাদের দলভুক্ত।(সুনানে আবু দাউদ ২/৫৫৯)

অর্থাৎ এমন পোশাক পরতে হবে, যা অন্য ধর্মের মানুষ ইসলামি পোশাক মনে করে পরে না।

কুরআন মজীদে এসেছে, তোমরা প্রকাশ্য গুনাহ ছাড় এবং আভ্যন্তরীণ গুনাহ ছাড়। (সূরা আনআম : ১২০)

অর্থাৎ আমার পরিস্কার আছে, কাপড় যা ইচ্ছা পরলাম; এমনটা করা যাবে না। মন পরিস্কার রাখতে হবে এবং কাপড়ও শরীর ঢেকে পরতে হবে।

আপনার ফ্যাশন যেটি হওয়া উচিৎ

আল্লাহ তাআলা বলেন, হে বনী আদম! আমি তোমাদের জন্য অবতীর্ণ করেছি পোশাক, যা তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করে এবং সৌন্দর্য দান করে। (সূরা আরাফ ২৬)

এ আয়াত থেকে বুঝি, এমন কাপড় পরতে হবে, যা পরলে লজ্জাস্থান কোনভাবেই দৃশ্যমান হবে না। পুরুষের লজ্জাস্থান নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত এবং নারীর লজ্জাস্থান চেহারা, দুই হাতের কবজি ও দুই পায়ের টাখনুর নিচ বাদে পুরো শরীর।

হযরত আবু জুরাই থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, টাখনু গিরার নিচে কাপড় পরিধান থেকে বিরত থাক। কেননা এটা অহংকারবশত হয়ে থাকে। আর আল্লাহ তাআলা অহংকারীকে ভালবাসেন না। (সুনানে আবু দাউদ ২/৫৬৪ হাদীস ২৭৫; মুসনাদে আহমদ ৫/৬৩ হাদীস ২৪১৯)

এ হাদিস শিক্ষা দেয়, যে পোশাক পরলে মনে অহংকার আসে এমন পোশাক না পরা। ইসলাম সহজ সরল চলাফেরা পছন্দ করে।

রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি দুনিয়াতে প্রসিদ্ধির পোশাক পরবে আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তাকে লাঞ্ছনার পোশাক পরাবেন। অতঃপর তাকে অগ্নিদগ্ধ করা হবে। (সুনানে আবু দাউদ ৪০২৯; আততারগীব ৩/১১২)

এ হাদিস থেকে স্পষ্ট যে, ভাইরাল হওয়ার জন্য কোনো কাপড় পরা ইসলামে নিষিদ্ধ।

হাদীস শরীফে এসেছে-দুই শ্রেণীর লোক জাহান্নামী। ১. ঐ সকল নারী, যারা কাপড় পরিধান করা সত্ত্বেও বিবস্ত্র থাকে … তারা জান্নাতে যেতে পারবে না। এমনকি জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না।-সহীহ মুসলিম হাদীস ২১২৮

এ হাদিস থেকে জানতে পারি, যদি পোশাক পরা সত্বেও লজ্জাস্থান প্রকাশিত হয়ে যায়। অর্থাৎ এমন পাতলা বা টাইট পোশাক পরা ইসলামে নিষিদ্ধ।

আপনার ফ্যাশন যেটি হওয়া উচিৎ

কোন ফ্যাশন আমাদের অনুকরণ করা উচিৎ?

প্রিয় পাঠক, মনে মনে হয়তো বলছেন। লেখক সাহেব, অনেক বড় লেখা পড়লাম। এবার বলুন, আমাদের কোন ফ্যাশন অনুকরণ করা উচিৎ? লেখক সবসময় নিরপেক্ষ লেখা লিখেন। সব বিষয় পাঠকের সামনে তুলে ধরেন। পাঠক কোন ফ্যাশনে নিজেকে চালাবেন তা একান্ত পাঠকের ব্যক্তিগত ব্যাপার।

আপনার ফ্যাশন যেটি হওয়া উচিৎ

তথ্যসূত্র: (লেখায় ইংরেজি কনটেন্টের বাংলা সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হয়েছে)

ছবি- ফ্রিপিক

(https://cordmagazine.com/living/fashion/top-ten-best-selling-clothing-fashion-brands-in-the-world/)

(https://shopthrilling.com/blogs/style-archive/10-once-iconic-fashion-brands-that-no-longer-exist-1)

(https://en.wikipedia.org/wiki/Fashion#cite_note-:9-1)

পাঠকরা যা বলছেন
A side profile of a woman in a russet-colored turtleneck and white bag. She looks up with her eyes closed.
জিনিয়া পারভীন
"আমি শুধু বলতে চাই আপনার নিবন্ধগুলির জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ! আমার প্রবলেম ছিল, এখানে প্রাপ্ত সমস্ত তথ্য অত্যন্ত সাহায্য করেছে। আপনি আমাকে আশা এবং দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।"

0011 linnet
"আমাদের মেইলিং তালিকায় সদস্যতা নিতে পৃষ্ঠার নীচে আপনার ইমেল ঠিকানা লিখতে ভুলবেন না, যাতে আপনি সর্বশেষ বিষয়বস্তু, নতুন পণ্য এবং লেটেষ্ট ব্লগ এর নোটিফিকেশন  দ্রুত পেতে পারেন ।"
লিখাটি নিয়ে আপনার অভিমত কি?
Shop at Linnet
Total
0
Shares