নিম সাবান
নিম সাবান কীভাবে তৈরি করবেন ধাপে ধাপে নির্দেশিকা

বাজারে আজকাল বিভিন্ন ধরনের নিম সাবানই পাওয়া যায়, তবে সে  সাবানে কতটা সত্যিকারের নিম বা নিমের গুণাগুণ থাকে তা হয়তো আমাদের অনেকেরই জানা নেই। আবার নিমের গুণাগুণ থাকলেও তা কতটা প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি সে খবর নেই আমাদের। যেগুলো পাওয়া যায় সচরাচর তা মূলত তৈরি করা হয় আমাদের মনোযোগ আকর্ষণের জন্য। আমাদের আজকের আয়োজন। কীভাবে সম্ভব নিম  সাবান তৈরি করা যায়,তবে একটু ভালোভাবে জানতে হবে প্রক্রিয়াটি।

নোট করার জন্য প্রয়োজনীয় খাতা কলম নিয়ে বসুন, কারন অনেক ইমপর্টেন্ট রেসিপি এর হিসাব লিখতে হতে পারে, আর এ সাবান শুধু মুখের ত্বকেই না, ব্যবহার করতে পারবেন সম্পূর্ণ দেহেই। এটা তো সবারই জানা, নিম ব্রণ, ফুসকুড়ি দূর করতে এবং ত্বককে নিখুঁত ও দাগহীন রাখতে ব্যাপক উপকারী একটি উপাদান। এছাড়া শরীরের যে কোন খোস-পাঁচড়ার সমস্যাও দূর করতেও এর জুড়ি নেই। তবে জেনে নেয়া যাক পদ্ধতিটি যা লাগবে : গত ভিডিওতে নিম সাবানের উপকরন ও প্রয়োজনীয় তৈজষপত্র কি কি লাগবে তা দেখোনো হয়েছে, যারা নতুন দেখছেন তারা এই চ্যানেল থেকে দেখে আসতে পারেন পূর্বের ভিডিওটি অথবা এই ভিডিওর ডেসক্রিপশন বক্সে লিংক দেয়া থাকবে সেখান থেকে দেখে নিবেন,  তাহলে চলুন দেরী না করে শুরু করি-

Table of Contents

অর্গানিক সাবান এবং ত্বকের জন্য উপকারিতা

সাবান তৈরিতে নিরাপত্তা সতর্কতা:

সাবান তৈরির জন্য একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও কার্যকরী পরিবেশ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি একটি রাসায়নিক প্রক্রিয়া । এমন একটি স্থান নির্বাচন করুন যেখানে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল আছে, কারণ সাবান তৈরির প্রক্রিয়ায় ক্ষার (লাই) ব্যবহার করা হয় যা তীব্র গন্ধ ও ক্ষতিকারক ধোঁয়া তৈরি করতে পারে। এমন স্থানে কাজ করুন যেখানে শিশু বা পোষা প্রাণী প্রবেশ করতে পারে না, কারণ ক্ষার এবং গরম সাবান মিশ্রণ বিপজ্জনক হতে পারে। সাবান তৈরির সময় নিরাপত্তা এবং সঠিক প্রক্রিয়া বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে উচ্চ তাপমাত্রা এবং ক্ষারীয় পদার্থ ব্যবহৃত হয়। যদি কোনোভাবে ক্ষার বা গরম সাবান ত্বকে লাগে, দ্রুত আক্রান্ত স্থানে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

নিম সাবান
নিম সাবান কীভাবে তৈরি করবেন? ধাপে ধাপে নির্দেশিকা |

নিম সাবানের জন্য ব্যাচ এর উপকরন পরিচিতি

নিম সাবান এর মোট ব্যাচ ওয়েট/পরিমান ১৯২০.৭৪গ্রাম

 লাই সলিউশন প্রিপারেশন

সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড (NaOH) এর পরিমান = ১৯১.৩৯ গ্রাম

ডিসটিল্ড ওয়াটার বা পানির পরিমান = ৩৩৭.৫০ গ্রাম।

 লাই সলিউশন এর পরিমান হলো : ৫২৮.৮৯ গ্রাম

ওয়েল ফ্যাট এর  ব্যাচ ওয়েট/পরিমান ১৩৫০গ্রাম

কোল্ড প্রসেস কোকোনাট ওয়েল বা নাড়িকেল তেল =৪০৫গ্রাম

অলিভ ওয়েল বা জলপাই তেল ১৩৫ গ্রাম।

সানফ্লাওয়ার ওয়েল বা সূর্যমুখী তেল = ২৭০ গ্রাম।

এলমন্ড ওয়েল /কাঠবাদাম তেল = ১৩৫গ্রাম।

নিম সিড ওয়েল / নিমের তেল = ২০২.৫০গ্রাম।

ক্যাষ্টর ওয়েল/ ভেন্নার তেল= ১৩৫গ্রাম

আফ্রিকান কাঁচা শিয়াবাটার= ৬৭.৫০গ্রাম।

এসেনশিয়াল ওয়েল = ৪১.৮৫ গ্রাম

অর্গানিক এসেনসিয়াল ওয়েল: উপকারিতা এবং ব্যবহার

অর্থাৎ এই ব্যাচ থেকে আমরা মোট সাবান পাবো ১৯২০.৭৪ গ্রাম।

লাই সলিউশন বানানোর পরিমাপ বা ওজন করা

লাই শলিউশন তৈরী করার জন্য  ক্ষার (Lye) বা সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড (Sodium Hydroxide) সঠিক পরিমানে মেপে নেব। সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড (NaOH): কঠিন সাবান তৈরির জন্য প্রয়োজনীয়। এটি তেলের সাথে মিশে সাবান এবং গ্লিসারিন তৈরি করে। নিম সাবান তৈরির জন্য  এই ব্যাচে সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড (NaOH) এর পরিমান হবে ১৯১.৩৯ গ্রাম এবং ডিসটিল্ড ওযাটার বা পানির পরিমান হবে ৩৩৭.৫০ গ্রাম।

লাই এবং জল মিশ্রিত করুন

সাবান তৈরিতে লাই সল্যুশনের সঠিক মিশ্রণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি সাবানের সাফল্য এবং নিরাপত্তার জন্য মৌলিক ভূমিকা পালন করে। সাধারণভাবে, লাই সল্যুশনের জন্য লাই এবং পানির অনুপাত ১:২ থেকে ১:৩ হতে পারে। লাই এবং পানির মিশ্রণ ভালোভাবে নাড়ুন যতক্ষণ না লাই সম্পূর্ণরূপে দ্রবীভূত হয় এবং যতক্সন না একটি পরিষ্কার সল্যুশন তৈরি হয়। এটি কিছুটা গরম হতে পারে, তাই এটি সঠিক তাপমাত্রায় আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। লাই সল্যুশন প্রস্তুত করার পর এটি ঠাণ্ডা হতে দিন যাতে এটি তেল মিশ্রণের সাথে মিশ্রিত করার জন্য প্রস্তুত হয়।

নিম সাবান তৈরির ক্ষেত্রে তেল ও ফ্যাট বা বিভিন্ন উদ্ধিজ্জ বাটার সঠিক পরিমাপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি সাবানের গুণগত মান এবং কার্যকারিতার ওপর প্রভাব ফেলে। বিভিন্ন তেল বা ফ্যাট এর মিশ্রণের পরিমাণ সঠিকভাবে মাপা উচিত যাতে সাবানটি প্রয়োজনীয় গুণাবলী বজায় রাখতে পারে।

শিয়া ও কোকোয়া বাটার ত্বকের জন্য, কেন উপকারী?

উপাদানগুলি(তেল ও বাটার) পরিমাপ বা ওজন করা

প্রথমেই আমরা কোল্ড প্রসেস কোকোনাট ওয়েল বা নাড়িকেল তেল নিব ৪০৫গ্রাম

নারকেল তেল ত্বকের পোর কমাতে সাহায্য করে, সেনসিটিভ স্কিন মসৃণ করে। এ ছাড়া র‌্যাশ ও চুলকানি কমায়। নারকেল তেলের সাপেনিফিকেশন ভ্যালু খুব ভালো পাওয়া যায়। নারিকেল তেলের ৯৯% ফ্যাট যার প্রধান অংশই সম্পৃক্ত চর্বি।

অলিভ ওয়েল বা জলপাই তেল ১৩৫ গ্রাম। এই তেলে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা নমনীয়তা বজায় রেখে ত্বক টানটান রাখতে সাহায্য করে। আমাদের ত্বকে পানির পরিমাণ কমে গেলে ত্বক রুক্ষ হতে শুরু করে। প্রচুর ভিটামিন এ ও ই-এর পাশাপাশি এই তেলে ভিটামিন ডি ও কে থাকে, যা ত্বকের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশকেও সর্বোচ্চ সুরক্ষা দেয়।

সানফ্লাওয়ার ওয়েল বা সূর্যমুখী তেল লাগবে ২৭০ গ্রাম। সূর্যমুখী তেলে রয়েছে ভিটামিন, মিনারেল ও ফ্যাটি অ্যাসিড, যা ত্বকের স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্যে উপকারী। সূর্যমুখী তেলে রয়েছে ভিটামিন এ, সি, ডি ও ই এবং মিনারেল, যেমন—কপার, জিঙ্ক ও আয়রন; যা সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে সৌন্দর্য বাড়াতে সহায়ক।

এলমন্ড ওয়েল /কাঠবাদাম তেল লাগবে ১৩৫গ্রাম। আলমন্ড তেল ত্বকের জন্য একটি প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে। এটি ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে ত্বককে আর্দ্র রাখে, যার ফলে ত্বক থাকে কোমল এবং মসৃণ। বিশেষ করে শুষ্ক ত্বকের জন্য আলমন্ড তেল খুবই উপকারী।

নিম সিড ওয়েল লাগবে ২০২.৫০গ্রাম। এতে ভিটামিন-ই, অ্যামিনো অ্যাসিড এবং ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়, যা ত্বকের পুষ্টি জোগাতে কাজ করে। এই পুষ্টিগুণ বিশেষ করে ভিটামিন ই ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।

ক্যাষ্টর ওয়েল নিব ১৩৫গ্রাম।  ক্যাস্টর অয়েলে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এটি মুখের ত্বক থেকে ব্যাকটেরিয়া নির্মূল করতে সাহায্য করে।  ত্বকের ব্রণ ও বলিরেখা দূর করতে সাহায্য করে। ত্বকের ময়শ্চারাইজারের কাজ করে।

এবার লাগবে আফ্রিকান কাচা শিয়াবাটার ৬৭.৫০গ্রাম। শিয়া বাটারে রয়েছে ভিটামিন এ এবং ই-সহ আরও বেশ কিছু অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান। যা পরিবেশ দূষণ এবং অন্যান্য কারণে হওয়া ত্বকের ক্ষতি পুষিয়ে তুলতে সাহায্য করে। তাছাড়া ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রেখে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকেও ত্বক বাঁচাতে সাহায্য করবে শিয়া বাটার

হার্বস ও এসেনসিয়াল ওয়েল

হালকা তাপে আফ্রিকান কাচা শিয়াবাটার গলিয়ে তেলের মিশ্রন এর মধ্যে ঢেলে দিন এবং ভালোভাবে স্প্যাচুলা দিয়ে নাড়ুন যতক্ষন পর্যন্ত না ভালোভাবে মিশে যায়।এবার নিমপাতার গুড়ো ২ চা চামচ পরিমান নিয়ে তেলের মিশ্যণ এর সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন যাতে গুড়ো দলা পেকে না থাকে। প্রয়েজনে মিশ্যনটিতে হ্যান্ড ব্লেন্ডার দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিতে হবে।অর্গানিক টারমারিক পাওডার বা হলুদগুড়ো হাফ চা চামচ তেলের সাথে ভালোভাবে মিয়ে নিন। এবার একটা কাচের বোতলে ১৫ গ্রাম টারমারিক/ হলুদের এসেনসিয়াল ওয়েল মেপে নিব। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে, হলুদের ওয়েলে প্রদাহ দুরকারী ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদানের সাথে, কারকিউমিনের উপস্থিতি, একে অভাবনীয়ভাবে ক্ষমতাশালী এসেনশিয়াল-ওয়েল বানিয়েছে। রোজম্যারি এসেনসিয়াল ওয়েল ১০ গ্রাম নিন। এটি আয়রনের বেশ ভালো একটি উৎস, এছাড়াও এতে আছে ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন এ, সি এবং বি৬। রোজমেরি তেলে আছে প্রদাহরোধী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা জীবাণুনাশক উপাদান সমৃদ্ধ।”  আর ১৬.৪১ গ্রাম ইউক্যালিপটাস এসেনশিয়াল-ওয়েল এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে, যা শরীরের জন্য খুবই ভালো। এই এসেনসিয়াল ওয়েলগুলোর ব্যবহারে আপনার সাবানের কার্যকরিতা অনেকগুণ বাড়িয়ে দেবে আর যদি এগুলো সংগ্রহ করতে না পারেন তাতেও কোন অসুবিধা হবে না ,এগুলো ছাড়ায় সাবান বানানো হয়ে যাবে।

তেল এবং লাই সলিউশন মিশ্রিত করন

তাপমাত্রা মিলানো: লাই এবং তেলের তাপমাত্রা মিলিয়ে নিন। সাধারণভাবে, উভয়ের তাপমাত্রা কাছাকাছি হওয়া উচিত। কোল্ড প্রসেস সাবান তৈরির জন্য আদর্শ তাপমাত্রার পরিসীমা হলো তেল এবং লাই দ্রবণ উভয়ের জন্য 100 ডিগ্রি ফারেনহাইট থেকে 130 ডিগ্রি ফারেনহাইট (38 ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড থেকে 54 ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড)। এটি সাবান তৈরির জন্য একটি নিয়ন্ত্রিত স্যাপোনিফিকেশন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করবে।

লাই তেল মিশ্রণ: লাই সল্যুশন এবং তেল একত্রিত করার সময়, লাই সল্যুশনকে ধীরে ধীরে তেলে ঢালুন। লাই তেল মিশ্রিত করার সময় সাবধান থাকুন যাতে মিশ্রণটি স্প্ল্যাশ না করে। লাই এবং তেল ভালোভাবে মিশে যাওয়ার জন্য মিশ্রণটি একটি স্টিক ব্লেন্ডার বা মিক্সার দিয়ে নেড়ুন। এটি তেল এবং লাই সাপোনিফিকেশন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে।

সাবান তৈরিতে সুগন্ধি উপাদান (যেমন, এসেনশিয়াল অয়েল বা ফ্রেগ্র্যান্স অয়েল) যোগ করার সঠিক সময় সাবানের গুণগত মান এবং সুগন্ধির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সুগন্ধি উপাদান যোগ করার জন্য সাধারণভাবে সাবানের ঘনত্ব বেড়ে গেলে সাবানের মোল্ডে ঢালার ঠিক পূর্বে আগে থেকেই মেপে রাখা  সুগন্ধি বা এসেনসিয়াল ওয়েল এর উপাদানগুলি এবং এর সাথে ভিটামিন ই হাফ চা চামচ সঠিকভাবে ভালোভাবে মেশাতে হবে। মিশ্রনের ঘনত্ব বেড়ে গেলে সাবানের মোল্ডে ঢেলে দিন। সাবান মোল্ড থেকে মুক্ত করার উপযুক্ত সময় এবং সাবান কাটা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা সাবানের গুণমান এবং আকৃতির সঠিকতা নিশ্চিত করে। সাবান মোল্ডে ঢালার পর, সাবানটি সম্পূর্ণভাবে ঠাণ্ডা হতে দিন। সাধারণভাবে, এটি ১২-২৪ ঘণ্টা সময় নিতে পারে।

নিম সাবান
নিম সাবান কীভাবে তৈরি করবেন? ধাপে ধাপে নির্দেশিকা |

মোল্ড থেকে সাবান বের করা ও কাটিং

সাবান যদি গরম থাকে তবে এটি মোল্ড থেকে বের করার সময় ভঙ্গুর বা অপূর্ণ হতে পারে। সাবান মোল্ড থেকে বের করার পর, এটি সঠিকভাবে ঠাণ্ডা হতে দিন। সাধারণভাবে, সাবানটি পুরোপুরি ঠাণ্ডা হওয়ার পর কাটা উচিত। সবশেষে সাবানটির গন্ধ এবং চেহারা পরীক্ষা করুন। গন্ধ যদি খুব তীব্র বা অস্বাভাবিক হয়, তাহলে সাবানটি রাসায়নিকভাবে ঠিকঠাক হতে পারেনি। সাবানের পৃষ্ঠতলও পরীক্ষা করুন। যদি কোনও খসখসে বা অস্বাভাবিক রঙের পরিবর্তন দেখা যায়, তাহলে সাবানটির রাসায়নিক প্রক্রিয়া সঠিক হয়নি । এর পরে, সাবানটি মোল্ড থেকে বের করুন এবং কেটে নিন। সাবান বার আকারে কেটে নেওয়ার পরে স্যাপোনিফিকেশন প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ করতে 4-6 সপ্তাহের জন্য একটি শীতল, শুষ্ক জায়গায় একটি নিরাপদ র‌্যাকে বারগুলি রাখুন। 4-6 সপ্তাহের পরে এই বার সাবানগুলো ত্বকে ব্যবহারের উপযক্ত হবে এবং আপনি একটি ন্যাচারাল কেমিকেল বিহিন ত্বকবান্দব সাবান পাবেন।

সাবানের ফেনা তৈরির ক্ষমতা পরীক্ষা

এই নিম সাবান ১০০ ভাগ নিরাপদ কারণ এতে আছে প্রাকৃতিকভাবে  তৈরি করা নিমের গুড়া ও তেল। নিমের তেলে প্রচুর ভিটামিন ই এবং ফ্যাটি এসিড থাকে যা ত্বক এবং চুলের জন্য উপকারী।এই সাবান নিয়মিত ব্যবহারে আপনার ত্বক পাবে প্রাকৃতিক নিমের সকল গুণ এবং ক্রমস মিটে যাবে ত্বকের সকল সমস্যা।

নিম সাবান বিষয়ক কিছু প্রশ্ন ও উত্তর দেয়া হলো:

. নিম সাবান কী?

উত্তর:
নিম সাবান হলো প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি একটি সাবান, যার প্রধান উপাদান হলো নিম পাতা বা নিম তেল। এটি অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্যযুক্ত, যা ত্বকের যত্নে অনেক উপকারী।

. নিম সাবান ত্বকের জন্য কেন উপকারী?

উত্তর:
নিমের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিফাঙ্গাল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণাবলী ত্বকের ব্রণ, চুলকানি, এবং র‌্যাশ কমাতে সাহায্য করে। এটি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং ত্বককে কোমল ও মসৃণ করে।

. নিম সাবান কি সব ধরনের ত্বকের জন্য উপযুক্ত?

উত্তর:
হ্যাঁ, নিম সাবান সাধারণত সব ধরনের ত্বকের জন্য উপযুক্ত। এটি বিশেষ করে তৈলাক্ত ত্বক, সংবেদনশীল ত্বক ও ব্রণ প্রবণ ত্বকের জন্য খুবই কার্যকর।

. ঘরে নিম সাবান তৈরি করতে কত সময় লাগে?

উত্তর:
নিম সাবান তৈরির প্রাথমিক ধাপগুলো এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে শেষ করা যায়। তবে সাবানটি সম্পূর্ণ তৈরি হয়ে ব্যবহারযোগ্য হতে ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ সময় লাগে, যেহেতু এটি সেই সময়ের মধ্যে সঠিকভাবে ‘কিউর’ হয়।

. নিম তেল বা নিম পাতা কোথা থেকে সংগ্রহ করা যায়?

উত্তর:
নিম তেল ও নিম পাতা সহজেই অনলাইন বা স্থানীয় হারবাল স্টোর থেকে পাওয়া যায়। আপনি চাইলে নিজে গাছ থেকে নিম পাতা সংগ্রহ করে গুঁড়া তৈরি করতে পারেন।

. নিম সাবানে অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদান যোগ করা যায় কি?

উত্তর:
হ্যাঁ, আপনি নিম সাবানে অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদান যেমন, অ্যালোভেরা, চন্দন গুঁড়া, ল্যাভেন্ডার তেল ইত্যাদি যোগ করতে পারেন, যা ত্বকের জন্য অতিরিক্ত পুষ্টি এবং সুগন্ধ প্রদান করবে।

. নিম সাবান তৈরিতে সতর্কতা কী কী?

উত্তর:
নিম সাবান তৈরিতে লাই (সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড) ব্যবহার করতে হয়, যা সতর্কতার সাথে পরিচালনা করতে হবে। লাই সরাসরি ত্বকে লাগলে পোড়া ফেলার সম্ভাবনা থাকে, তাই গ্লাভস এবং সুরক্ষা চশমা ব্যবহার করা উচিত।

. নিম সাবান ব্যবহারে কি কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে?

উত্তর:
সাধারণত নিম সাবানের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তবে যাদের নিমের প্রতি সংবেদনশীলতা আছে, তাদের জন্য প্রথমে ত্বকের একটি ছোট অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত।

 

Shop at Linnet
Total
0
Shares