কোলাজেন : অপ্রাপ্ত বয়সে বার্ধক্য প্রকাশ পাওয়া, শরীরের জীর্ণতা প্রকাশিত হওয়া, চামড়া ঝুলে যাওয়া কিংবা চামড়ার ইলাস্টিসিটি কমে যাওয়া রোগ আমরা মাঝে মাঝেই দেখি কিংবা আমরা আক্রান্ত হই।
অনেকের কাছে এগুলো বিরল রোগে আক্রান্ত হওয়ার বহিঃপ্রকাশ আবার অনেকের কাছে স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় পর্যায় বলে মনে হয়। কিন্তু এগুলোর মূল কারন হচ্ছে কোলাজেন এর অভাব।
কিন্তু হয়তো আমরা অনেকেই জানিনা যে এক ধরনের প্রোটিনের অভাবে আমরা এ ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি।
কি সেই প্রোটিন?
এ প্রোটিন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ ?
কোন ধরনের খাবার থেকে আমরা এ ধরনের প্রোটিন পেতে পারি?
আজকের ব্লগে আমি আপনাদের সাথে আলোচনা করব এই গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন নিয়ে। জানিয়ে দেবো এর ন্যাচারাল সোর্স সম্পর্কে।তাই সম্পূর্ণ ব্লগ জুড়ে আমাদের সাথে থাকুন।
কোলাজেন।
মানবদেহের 25 % থেকে 35% প্রোটিন হলো কোলাজেন।এটি শরীরের বিভিন্ন সংযোগকারী টিস্যুর বহির্কোষী ম্যাট্রিক্সের প্রধান কাঠামোগত প্রোটিন ।সংযোজক টিস্যুর প্রধান উপাদান হিসাবে স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে সর্বাধিক পরিমাণে থাকা প্রোটিন কোলাজেন।এছাড়াও তরুণাস্থি , হাড় , টেন্ডন , লিগামেন্ট এবং ত্বকে এর গঠনগত প্রোটিন কোলাজেন।
কোলাজেন সাধারনত ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে শরীরে কোলাজেনের পরিমাণ কমতে থাকে। ফলে আমাদের ত্বকের চামড়া ঢিলে হতে শুরু করে দেয় যা বয়সকে বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু কোলাজেন সমৃদ্ধ খাবার বয়স বাড়ার এ প্রক্রিয়াকে ধীর গতি করে দিতে পারে।
তাই, প্রতিটি মানুষের বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে পর্যাপ্ত কোলাজেন প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার প্রয়োজন পড়ে। অনেকে কোলাজেন সমৃদ্ধ খাবারের সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার চেয়ে, প্রাকৃতিকভাবে যেসব খাবারে কোলাজেন পাওয়া যায় বা যেসব খাবার আমাদের শরীরে কোলাজেন উৎপাদন করতে সাহায্য করে, সেসব খাবার খাওয়াকে বেশি প্রাধান্য দেয়। )
এখন প্রশ্ন হলো,
আমরা কিভাবে প্রাকৃতিক সোর্স থেকে কোলাজেন পাবো?
কোন কোন খাবারে প্রাকৃতিক ভাবে কোলাজেন পাওয়া যায়?
প্রথমেই এই আমাদের বোঝা উচিত, কোন কোন খাবারগুলো আমাদের প্রাকৃতিক ভাবে কোলাজেন সরবরাহ করে আর কোন খাবারগুলো আমাদের শরীরে কোলাজেন উৎপাদনকে স্টিমুলেইট করে।একটা বয়সের পর আমাদের শরীর কোলাজেন উৎপাদন করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, ঠিক কোন খাবারগুলো শরীরের সেই ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে পারে, সেইগুলো চিহ্নিত করা বেশি জরুরি।
মাংসের হাড়ের ঝোল খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠা খাবার। বিশেষ করে স্বাস্থ্য সচেতন ব্যক্তিরা তাঁদের ডায়েটে এই ঝোল যোগ করছেন। এই খাবার কোলাজেনের অন্যতম সোর্স হিসেবে চিহ্নিত করা হয় ।এটি পশুর হাড় এবং হাড় সংলগ্ন টিস্যুকে সিদ্ধ করে তৈরি করা হয় ।শুয়োরের মাংস, টার্কি, ল্যাম্ব, মুরগি বা মাছ এমন যে কোনও প্রাণীর হাড় (কাঁটা) ব্যবহার করে এই হাড়ের ঝোল তৈরি করা হয়।অল্প ভিনিগার দিয়ে জলের মধ্যে হাড় সিদ্ধ করেলে, অস্থি মজ্জা থেকে পুষ্টির নিঃসরণ হয় ।সেইসঙ্গে অন্যান্য টিস্যুগুলিকে জলের মধ্যে ভেঙে যায়।
মাছ এবং শেলফিশ হল কোলাজেনের চমৎকার প্রাকৃতিক উৎস, কারণ এগুলোর হাড়, লিগামেন্ট এবং ত্বকে কোলাজেনের পরিমাণ চ বেশি থাকে। এছাড়াও বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ কোলাজেন পাওয়া যায়। মাছের ত্বকে যেহেতু মাছের মাংসের চেয়ে কোলাজেনের পরিমাণ বেশি থাকে, তাই মাছ খাওয়ার সময় ত্বক সহ মাছ খাব, এতে আমাদের শরীরে কোলাজেনের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে।
মুরগিতে যেহেতু প্রচুর পরিমানে সংযোজক টিস্যু থাকে, তাই কোলাজেনের অন্যতম প্রাকৃতিক উৎস হিসাবে মুরগীকে বিবেচনা করা হয়। সাধারনত মুরগির ঘাড়, তরুণাস্থি এবং পায়ের অংশে কোলাজেনের পরিমাণ বেশি থাকে।
প্রতিদিন ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খাওয়া যেতে পারে কারন ভিটামিন সি আমাদের শরীরের কোলাজেন উৎপাদন ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ কয়েকটি খাবার হলো, লেবু, কমলা, আঙ্গুর, স্ট্রবেরি, আম, আনারস, পেয়ারা, টমেটো এবং ব্রকলি।
এগুলোর পাশাপাশি এন্টিঅক্সিডেন্ট যুক্ত খাবার আমাদের দেহে কোলাজেন উৎপাদনে ভূমিকা রাখে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য খাবার মালবেরি, দারুচিনি,লিক্যুরিস,গ্রিন টি, ডালিম।
পুদিনা পাতা, অরিগানো, থাইম পাতা,টমেটো ও সবুজ শাক সবজি থেকে এক ধরনের তরল তৈল ক্ষরন হয়।যা মানবদেহে কোলাজেন উৎপাদনে বেশ সহায়ক।
তাছাড়া অ্যামিনো এসিড এবং প্রোটিনের অন্যতম প্রধান উৎস হলো ডিম, যা আমাদের শরীরকে কোলাজেন তৈরির জন্য অ্যামিনো এসিড সরবারহ করে থাকে। কোলাজেন তৈরির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অ্যামিনো এসিড হলো প্রোলিন, এছাড়াও লাইসিন এবং গ্লাইসিন অ্যামিনো এসিড কোলাজেন উৎপাদনে ভূমিকা পালন করে।
ডিমের মতো কলাই বা শিম জাতীয় খাবারেও অ্যামিনো এসিড থাকে যা আমাদের শরীরকে কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করে থাকে এবং পাশাপাশি পুষ্টি উপাদান হিসাবে বিভিন্ন মৌল থাকে যা কোলাজেন উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। উদহারন রূপ রসুনে প্রচুর পরিমানে সালফার থাকে যা আমাদের শরীরের কোলাজেন তৈরিতে ভূমিকা রাখে।)
জিনসেং শরীরে কোলাজেন উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।এছাড়াও জিনসেং-এ প্রচুর পরিমান এন্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা শরীরের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ।)
sources:
https://www.healthline.com/health/bea..
.https://www.webmd.com/diet/foods-high...